শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং, সন্ধ্যা ৭:৩৮
শিরোনাম :
বাঁধনের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএম কলেজে আলোচনা সভা, র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ বিএম কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন কলেজে আলোচনা সভা সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ বরিশাল জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর ড.মাহফুজুর রহমানের শপথ গ্রহণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম উদীয়মান শক্তিতে পরিণত হচ্ছে ইরান দেড় মাসের শিশু উদ্ধার,এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার তিন নারী কারাগারে বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুলাই যোদ্ধার মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি এনসিপি মেয়রপ্রার্থীর! বরিশালের এআরএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু

বাবুগঞ্জের যুবলীগ নেতা মন্টু হত্যার ঘটনায় ২৪ দিনেও মামলা হয়নি!

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি  বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মন্টু হাওলাদার’র(৪০) লাশ গত ১৪ ফেব্রয়ারি মাদারীপুরের রাজৈর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের একদিন পর মিজানুর রহমান মন্টুর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে রাজৈর থানা পুলিশ।

মৃত মিজানুর রহমান বরিশালের এয়ারপোর্ট থানার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বকশীরচর গ্রামের সামসুল হক হাওলাদারের ছেলে। নিহতের ২৪ দিনেও কোন থানায় মামলা না হওয়ায় দূঃখ প্রকাশ করেছে হতাশাগ্রস্থ পরিবারটি। নিহত মন্টু হাওলাদারের পিতা সামসুল হক ও চাচা আব্দুল মান্নান বলেন, মন্টুর নিহতের দিন থেকে সন্দেহভাজন লাকুটিয়া এলাকার ভুলু শেখের ছেলে মিলন শেখ’র পরিবারসহ পলাতক রয়েছে। মন্টু বাড়ি থেকে মিলন শেখের ফোন পেয়ে বের হয়ে ছিলো। কিন্তু কোন থানায় মামলা না নেওয়ায় হত্যার রহস্যটি অজানাই রয়ে যাচ্ছে। এদিকে নিহত মন্টুর কলেজ ও স্কুল পড়–য়া দুই মেয়ে ও এক শিশু ছেলেকে নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছে স্ত্রী।

এলাকাবাসীর সহযোগীতায় কোনরকম খেয়ে-দেয়ে বেঁচে আছে পরিবারটি বলে জানিয়েছে স্থানিয়রা। নিহতের পরিবারের অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাস্থলে রাজৈর থানায় মামলা দয়েরের জন্য গেলে বিভিন্ন অজুহাতে সময় ক্ষেপন করছে। তারা ময়না তদন্তের প্রতিবেদনের কথা বলে ২৪ দিনেও মামলা নেয়নি। বরিশালের এয়ারপোর্ট থানায় মামলার জন্য গেলে ওসি সাহেব ঘটনাস্থলে রাজৈর থানায় মামলা দায়েরের কথা বলে পাঠিয়ে দিয়েছে। এমত অবস্থায় এলাকাবাসি বলছে অর্থের জোর না থাকায় হত্যার ঘটনা ধামাচাপা পরে যাচ্ছে অতি সহজেই। মন্টু হাওলাদারের দুই মেয়ে বাবার হত্যার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র সহযোগীতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, ১৬ ফেব্রæয়ারি রবিবার বিকালে নিহতের লাশ মাদারিপুর সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। এসময় তদন্তপূর্বক হত্যাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের চারঘাটা নামক স্থানে তার দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। হাসপাতাল রেজিস্ট্রার অনুযায়ী ১৪ই ফেফ্রুয়ারি দিবাগত রাত ২:৪৫ মিনিটে তাকে রিসিভ করা হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, ১৪ই ফেব্রæয়ারি শুক্রবার বিকালে মিজানুর রহমান মন্টু অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সারারাত পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোন সন্ধান পায়নি। শনিবার সকালে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোনে জানানো হয়, মিজানুর রহমার মারা গেছে। পরে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে এসে পরিবারের লোকজন তার লাশ সনাক্ত করে।

স্বজনরা আরো বলেন, মন্টুকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও পাওয়া যাচ্ছে না। এই হত্যা কান্ডের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী কেউ জরিত রয়েছে বলে ধারনা করছেন তারা। এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলে জানান তারা।

ছবিতে দেখাযায়, তার দুই পা ভাঙ্গা, মাথায় ও কানে মর্মান্তিক যখম। সারাশরিরে জখমের চিহৃ। ছবি দেখে মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের নির্মমতা উপলব্দি করা গেলেও ঘটনাস্থলের কতিপয় ভিন্নদিকে ধাবিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের ঘনিষ্টজনরা।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।